Unit Price: ৳ 8.05 (2 x 10: ৳ 161.00)
Strip Price: ৳ 80.50
This medicine is unavailable
Also available as:

নির্দেশনা

এটি বিসফসফনেটস নামক ওষুধের একটি গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। এটি শরীরের হাড় গঠন এবং ক্ষয় হওয়ার চক্র পরিবর্তন করে। এটি হাড়ের ক্ষয় ধীর করে এবং হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে, যা হাড়ের ফাটল বা ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করতে পারে। রাইসড্রোনেট একটি প্রেসক্রিপশন ওষুধ যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
  • মেনোপজ-পরবর্তী (ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া) নারীদের অস্টিওপরোসিস (হাড় ক্ষয় রোগ) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়।
  • অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত পুরুষদের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য।
  • স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ (যেমন-প্রেডনিসোলন) ব্যবহারের কারণে পুরুষ ও নারীদের যে অস্টিওপরোসিস হয়, তা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়।
  • পুরুষ ও নারীদের হাড়ের 'প্যাজেটস ডিজিজ' এর চিকিৎসায়।
* রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ সেবন করুন

ফার্মাকোলজি

আপনার শরীর অনবরত পুরানো হাড় ভেঙে নতুন হাড়ের টিস্যু তৈরি করছে। আপনার যদি অস্টিওপরোসিস থাকে, তবে আপনার শরীর হাড় গঠনের চেয়ে হাড় ক্ষয় বেশি করে; ফলে ধীরে ধীরে হাড়ের ক্ষয় ঘটে এবং হাড় পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। মেনোপজের পর নারীদের ক্ষেত্রে এটি খুবই সাধারণ ঘটনা। অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত অনেকেরই কোনো উপসর্গ থাকে না, এমনকি আপনি হয়তো জানবেনও না যে আপনার এই রোগটি আছে। তবে, অস্টিওপরোসিস আপনার হাড় ভেঙে যাওয়ার (বিশেষ করে মেরুদণ্ড, নিতম্ব এবং কব্জির হাড়) ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

রাইসড্রোনেট হাড়ের হাইড্রোক্সিপ্যাটাইট ক্রিস্টালের প্রতি আকর্ষণ দেখায় এবং হাড়ের ক্ষয় রোধকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে। কোষীয় স্তরে এটি অস্টিওক্লাস্টকে (হাড় ক্ষয়কারী কোষ) বাধা দেয়। অস্টিওক্লাস্টগুলো হাড়ের উপরিভাগে স্বাভাবিকভাবে লেগে থাকলেও তাদের সক্রিয় ক্ষয় করার ক্ষমতা কমে যায়।

ঔষধের মাত্রা

মেনোপজ-পরবর্তী অস্টিওপরোসিসের চিকিৎসায় (মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে) এবং প্রতিষ্ঠিত মেনোপজ-পরবর্তী অস্টিওপরোসিসের চিকিৎসায় (নিতম্বের হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে): নির্দেশিত মাত্রা হলো রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন একবার, অথবা রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ৩৫ মিলিগ্রাম সপ্তাহে একবার (প্রতি সপ্তাহের একই দিনে), অথবা রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ১৫০ মিলিগ্রাম মাসে একবার।

অস্টিওপরোসিসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রতিরোধ করতে: নির্দেশিত মাত্রা হলো রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন একবার।

দীর্ঘমেয়াদী (৩ মাসের বেশি) সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েড (যেমন- প্রতিদিন ৭.৫ মিলিগ্রাম প্রেডনিসোন বা সমমানের ওষুধ) গ্রহণকারী মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে বা বাড়াতে: নির্দেশিত মাত্রা হলো রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন একবার।

হাড় ভাঙার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা পুরুষদের অস্টিওপরোসিসের চিকিৎসায়: নির্দেশিত মাত্রা হলো রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ৩৫ মিলিগ্রাম সপ্তাহে একবার। ট্যাবলেটটি প্রতি সপ্তাহের একই দিনে গ্রহণ করতে হবে।
* রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ সেবন করুন

সেবনবিধি

খাবারের উপস্থিতিতে রাইসড্রোনেট সোডিয়ামের শোষণ ব্যাহত হয়। তাই সঠিক শোষণের জন্য রোগীদের উচিত দিনের প্রথম খাবার, অন্য কোনো ওষুধ বা পানীয় (সাধারণ পানি ছাড়া) গ্রহণের অন্তত ৩০ মিনিট আগে রাইসড্রোনেট ট্যাবলেট সেবন করা।

বিশেষ ক্ষেত্রে যদি প্রাতঃরাশের আগে ওষুধ খাওয়া সম্ভব না হয়, তবে রাইসড্রোনেট ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেটটি দুটি খাবারের মাঝের সময়ে অথবা প্রতিদিন সন্ধ্যায় একই সময়ে খালি পেটে খাওয়া যেতে পারে, তবে নিচের নির্দেশনাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে:
  • দুটি খাবারের মাঝের সময়ে: রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ট্যাবলেট যেকোনো খাবার, ওষুধ বা পানীয় (সাধারণ পানি ছাড়া) গ্রহণের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে অথবা অন্তত ২ ঘণ্টা পরে সেবন করতে হবে।
  • সন্ধ্যায়: দিনের শেষ খাবার, ওষুধ বা পানীয় (সাধারণ পানি ছাড়া) গ্রহণের অন্তত ২ ঘণ্টা পরে রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ট্যাবলেট সেবন করতে হবে।
যদি কোনো মাত্রা বাদ পড়ে:
  • রাইসড্রোনেট ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট: যদি কখনো কোনো মাত্রা বাদ পড়ে, তবে উপরের নিয়ম অনুযায়ী প্রাতঃরাশের আগে, দুটি খাবারের মাঝে বা সন্ধ্যায় এটি সেবন করা যাবে।
  • রাইসড্রোনেট ৩৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট: রোগীদের নির্দেশ দিতে হবে যে, যদি কোনো মাত্রা বাদ পড়ে, তবে মনে পড়ার পরদিনই সকালে একটি রাইসড্রোনেট ৩৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। এরপর রোগীরা আবার সপ্তাহে একদিন করে নির্ধারিত দিনে ওষুধ খাওয়া শুরু করবেন। একই দিনে দুটি ট্যাবলেট খাওয়া যাবে না।
  • রাইসড্রোনেট ১৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট: যদি কোনো মাত্রা বাদ পড়ে এবং পরবর্তী মাসের নির্ধারিত ডোজের সময় ৭ দিনের বেশি বাকি থাকে, তবে মনে পড়ার পরদিন সকালে বাদ পড়া ট্যাবলেটটি সেবন করতে হবে। এরপর রোগীরা পূর্বের নিয়মে মাসে একবার করে নির্ধারিত দিনে এটি সেবন করবেন।
ট্যাবলেটটি চিবানো বা চুষে খাওয়া যাবে না, সম্পূর্ণ গিলে খেতে হবে। ট্যাবলেটটি সহজে পাকস্থলীতে পৌঁছানোর জন্য সোজা হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে এক গ্লাস সাধারণ পানি (১২০ মিলি বা তার বেশি) দিয়ে সেবন করতে হবে। ট্যাবলেট খাওয়ার পর ৩০ মিনিট পর্যন্ত শুয়ে পড়া যাবে না। খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি না থাকলে আলাদা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কথা বিবেচনা করা উচিত।
* রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ সেবন করুন

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

আপনি যদি অন্য কোনো ওষুধ সেবন করেন বা সম্প্রতি করেছেন (বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা অন্য কোনো NSAID বা ব্যথানাশক ওষুধ), তবে তা আপনার ডাক্তারকে জানান। অ্যান্টাসিড, সাপ্লিমেন্ট বা অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা অন্য কোনো খনিজ সমৃদ্ধ ওষুধ রাইসড্রোনেট সোডিয়াম শোষণে বাধা দিতে পারে। আপনি যদি এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করেন, তবে রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ট্যাবলেট সেবনের পর অন্তত ৩০ মিনিট পর্যন্ত সেগুলো গ্রহণ করবেন না।

প্রতিনির্দেশনা

রাইসড্রোনেট সোডিয়ামের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে, হাইপোক্যালসেমিয়া (রক্তে ক্যালসিয়ামের স্বল্পতা), তীব্র কিডনি সমস্যা (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৩০ মিলি/মিনিট এর কম), গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যদানকালে রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ট্যাবলেট ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
  • বুকে ব্যথা;
  • খাবার গিলতে অসুবিধা বা ব্যথা হওয়া;
  • পাঁজরের নিচে বা পিঠে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া;
  • নতুন করে বা তীব্র বুক জ্বালাপোড়া;
  • তীব্র জয়েন্ট, হাড় বা পেশী ব্যথা;
  • চোয়ালে ব্যথা, অসাড়তা বা ফোলাভাব।
কম গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
  • মৃদু বুক জ্বালাপোড়া বা পেট খারাপ;
  • ডায়রিয়া, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্য;
  • মৃদু জয়েন্ট বা পিঠের ব্যথা;
  • মাথাব্যথা।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

রাইসড্রোনেট সোডিয়াম শুধুমাত্র মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ব্যবহারের জন্য। তাই গর্ভাবস্থায় এই ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। যদি গর্ভাবস্থায় ভুলবশত এটি সেবন করা হয়, তবে অবিলম্বে ওষুধ বন্ধ করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। এটি স্তন্যদানকারী মায়েদেরও সেবন করা উচিত নয়। যদি স্তন্যদানকালে ভুলবশত এটি খাওয়া হয়, তবে অবিলম্বে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো থাকলে রাইসড্রোনেট সেবনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন:
  • রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কম থাকলে।
  • যদি একটানা ৩০ মিনিট বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে না পারেন।
  • কিডনির কার্যক্ষমতা দুর্বল হলে।
  • রাইসড্রোনেট সোডিয়ামের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে।
রাইসড্রোনেট সেবনের আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন যদি আপনি:
  • গর্ভবতী হন বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকে (এটি অনাগত শিশুর ক্ষতি করতে পারে কিনা তা এখনো জানা যায়নি)।
  • স্তন্যদান করান বা করানোর পরিকল্পনা থাকে (এটি মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর ক্ষতি করতে পারে কিনা তা জানা যায়নি)।
  • কিডনির সমস্যায় ভুগছেন (রাইসড্রোনেট সোডিয়াম আপনার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে)।
  • রাইসড্রোনেট সোডিয়াম শিশুদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়।
চিকিৎসা চলাকালীন যদি আপনার কোনো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (যেমন- মুখ, জিব বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হওয়া, ত্বকে র‍্যাশ) দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে রাইসড্রোনেট সেবন বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অতিসংবেদনশীলতার কারণে চিকিৎসা বন্ধ করলে পুনরায় এই ওষুধ শুরু করা উচিত নয়।

বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে রাইসড্রোনেট সোডিয়াম ট্যাবলেটের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে: বয়স্ক রোগীদের (৬০ বছর বা তার বেশি) ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যকারিতা ও নির্গমন তরুণদের মতোই হওয়ায় কোনো মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। এটি ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রেও প্রমাণিত।

কিডনি প্রতিবন্ধকতা: মৃদু থেকে মাঝারি কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রার কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তবে তীব্র কিডনি সমস্যায় (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৩০ মিলি/মিনিট এর কম) এর ব্যবহার প্রতিনির্দেশিত বা নিষিদ্ধ।

মাত্রাধিক্যতা

রাইসড্রোনেট সোডিয়ামের অতিরিক্ত মাত্রার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার কোনো তথ্য নেই। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের ফলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে (হাইপোক্যালসেমিয়া)। ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম বা অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ দুধ বা অ্যান্টাসিড দেওয়া যেতে পারে যাতে তা রাইসড্রোনেটের সাথে মিশে এর শোষণ কমিয়ে দেয়। মারাত্মক অতিরিক্ত মাত্রার ক্ষেত্রে পাকস্থলী পরিষ্কার করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Bisphosphonate preparations

সংরক্ষণ

শীতল ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো এবং আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।