নির্দেশনা

হারপিস সিমপ্লেক্স কেরাটাইটিস (চোখের এক ধরণের ভাইরাসজনিত ইনফেকশন) এর চিকিৎসায় এ্যাসাইক্লোভির নির্দেশিত।
* রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ সেবন করুন

ফার্মাকোলজি

এ্যাসাইক্লোভির একটি শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল উপাদান, যা গবেষণাগারে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস টাইপ ১ ও ২ এবং ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর। তবে স্তন্যপায়ী প্রাণীর কোষের জন্য এর ক্ষতিকারক প্রভাব খুবই কম। হারপিস আক্রান্ত কোষে প্রবেশের পর অ্যাকসাইক্লোভির রূপান্তরিত হয়ে সক্রিয় যৌগ 'এ্যাসাইক্লোভির ট্রাইফসফেট'-এ পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপটির জন্য ভাইরাসের নিজস্ব 'থাইমিডিন কাইনেজ' এনজাইমের উপস্থিতি প্রয়োজন। এই এ্যাসাইক্লোভির ট্রাইফসফেট ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট ডিএনএ পলিমারেজ এনজাইমকে বাধা দেয় এবং ভাইরাসের স্বাভাবিক ডিএনএ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে মানবদেহের স্বাভাবিক কোষের কোনো ক্ষতি না করেই ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

সব বয়সীদের জন্য এর ডোজ বা মাত্রা একই। চোখের নিচের পাতায় ১০ মিলিমিটার (১০ মি.মি.) পরিমাণ মলমের একটি রেখা বা রিবন দিনে ৫ বার লাগাতে হবে (আনুমানিক প্রতি ৪ ঘণ্টা পর পর)। চোখ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাওয়ার পরও অন্তত আরও ৩ দিন এই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
* রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ সেবন করুন

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

চিকিৎসাগতভাবে উল্লেখযোগ্য বা ক্ষতিকারক কোনো ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন বা পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিনির্দেশনা

যেসব রোগীর এ্যাসাইক্লোভির এর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

খুব সাধারণ: সুপারফিসিয়াল পাঙ্কটেট কেরাটাইটিস (চোখের কর্নিয়ায় ছোট ছোট দাগ)। তবে এর জন্য চিকিৎসা আগেভাগে বন্ধ করার প্রয়োজন হয় না এবং এটি কোনো স্থায়ী ক্ষতি ছাড়াই ঠিক হয়ে যায়।

সাধারণ: মলম ব্যবহারের সাথে সাথে চোখে সাময়িক মৃদু জ্বালাপোড়া করা এবং কনজাংটিভাইটিস (চোখ ওঠা)।

খুব কম দেখা যায় (বিরল): ব্লেফারাইটিস (চোখের পাতার প্রদাহ বা ফোলা ভাব)।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

এটি প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি 'B' ভুক্ত ঔষধ। গর্ভবতী নারীদের ওপর এ্যাসাইক্লোভিরের পর্যাপ্ত এবং সুনিয়ন্ত্রিত কোনো গবেষণা নেই। চোখে ড্রপ বা মলম হিসেবে ব্যবহারের পর এটি মায়ের বুকের দুধে নিঃসৃত হয় কি না তা জানা যায়নি।

সতর্কতা

চিকিৎসকের নির্দেশিত ঔষধের মাত্রা, ব্যবহারের সংখ্যা এবং চিকিৎসার সময়সীমা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।

মাত্রাধিক্যতা

যদি পুরো টিউবের সম্পূর্ণ ঔষধও (৯০ মিলিগ্রাম অ্যাকসাইক্লোভির) কোনোভাবে মুখে গিলে ফেলা বা খেয়ে ফেলা হয়, তবুও কোনো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা নেই।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Ophthalmic Anti-viral Products

সংরক্ষণ

ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। টিউবের মুখে বা ডগায় হাত দেবেন না, এতে ঔষধ দূষিত হতে পারে। টিউবের মুখ খোলার ১ মাস পর ভেতরের ঔষধ আর ব্যবহার করবেন না।