ভ্যালাসাইক্লোভির
নির্দেশনা
ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাস সংক্রমণ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক এমন প্রাপ্তবয়স্কদের হার্পিস জোস্টার (শিংগেলস/অনুরূপ চর্মরোগ) এবং অফথালমিক জোস্টার (চোখের হার্পিস)-এর চিকিৎসায় ভ্যালাসাইক্লোভির নির্দেশিত। এছাড়া মৃদু বা মাঝারি ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের হার্পিস জোস্টারের চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহৃত হয়।
হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস সংক্রমণ: ত্বক ও শ্লেষ্মাঝিল্লির হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের চিকিৎসা এবং প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস সংক্রমণ: ত্বক ও শ্লেষ্মাঝিল্লির হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের চিকিৎসা এবং প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
- স্বাভাবিক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের যৌনাঙ্গের হার্পিসের প্রথম পর্বের চিকিৎসা।
- যৌনাঙ্গের হার্পিস পুনরায় দেখা দিলে তার চিকিৎসা ও প্রতিরোধ।
- চোখে পুনরায় হওয়া হার্পিস সংক্রমণ দূর করা এবং প্রতিরোধ করা।
* রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ সেবন করুন
ফার্মাকোলজি
ভ্যালাসাইক্লোভির হলো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ 'অ্যাসাইক্লোভির' এর এল-ভ্যালিল এস্টারের হাইড্রোক্লোরাইড লবণ। এটি একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ, যা শরীরে হার্পিস ভাইরাসের বৃদ্ধি এবং বিস্তারকে ধীরগতির করে দেয়, যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। ভ্যালাসাইক্লোভির সংক্রমণের লক্ষণগুলো কমায় এবং অসুস্থতার সময়কাল কমিয়ে আনে। এটি যৌনাঙ্গের হার্পিস, শিংগেলস এবং কোল্ড সোর (জ্বরঠোসা)-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাস সংক্রমণ (হার্পিস জোস্টার):
- হার্পিস জোস্টার ধরা পড়ার সাথে সাথেই চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় পর চিকিৎসা শুরু করলে তা কতটা কার্যকর হয় সেটির কোনো তথ্য নেই।
- স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক: দৈনিক ৩ বার ১০০০ মি.গ্রা. করে (১টি ১০০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট) ৭ দিন সেব্য (দৈনিক মোট মাত্রা ৩০০০ মি.গ্রা.)।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন প্রাপ্তবয়স্ক: দৈনিক ৩ বার ১০০০ মি.গ্রা. করে কমপক্ষে ৭ দিন এবং ফুসকুড়িগুলো শুকিয়ে শক্ত চামড়া হওয়ার পর আরও ২ দিন সেবন করতে হবে। ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে বা ফুসকুড়িগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগে যেকোনো সময় চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন রোগী: ৫০০ মি.গ্রা. (১টি ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট) দিনে দুই বার সেব্য (দৈনিক মোট মাত্রা ১০০০ মি.গ্রা.)। ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্সের মাত্রা অনুযায়ী এই ডোজ কমানো লাগতে পারে। রোগ পুনরায় দেখা দিলে ৩ থেকে ৫ দিন সেবন করতে হবে। প্রথমবার সংক্রমণের ক্ষেত্রে তীব্রতা বেশি হতে পারে, তাই চিকিৎসা ১০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো লাগতে পারে। লক্ষণ দেখা দেওয়ার যত দ্রুত সম্ভব ওষুধ শুরু করা উচিত।
- হার্পিস ল্যাবিয়ালিস (কোল্ড সোর/জ্বরঠোসা): প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য ২০০০ মি.গ্রা. (২টি ১০০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট) দিনে দুই বার করে মাত্র ১ দিন সেবন করাই কার্যকর চিকিৎসা। দ্বিতীয় ডোজটি প্রথম ডোজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর (তবে কোনোভাবেই ৬ ঘণ্টার আগে নয়) নিতে হবে। ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স অনুযায়ী এই মাত্রা কমাতে হতে পারে। এই নিয়মে চিকিৎসা ১ দিনের বেশি বাড়ানো উচিত নয়। কোল্ড সোরের প্রাথমিক লক্ষণ (যেমন- চুলকানি, ঝিনঝিন করা বা জ্বালাপোড়া) দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন প্রাপ্তবয়স্ক: রোগীর শারীরিক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার তীব্রতা বিবেচনা করে ১০০০ মি.গ্রা. দিনে দুই বার করে কমপক্ষে ৫ দিন সেবন করতে হবে। প্রথম পর্বের তীব্র সংক্রমণের জন্য চিকিৎসা ১০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। সর্বোচ্চ কার্যকারিতার জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
- স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন রোগী: ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট দিনে একবার সেব্য। যাদের ঘন ঘন রোগটি ফিরে আসে (চিকিৎসা ছাড়া বছরে ১০ বারের বেশি), তারা দৈনিক ৫০০ মি.গ্রা. ডোজটি বিভক্ত আকারে (২৫০ মি.গ্রা. করে দিনে দুই বার) সেবন করলে বাড়তি সুফল পেতে পারেন। ৬ থেকে ১২ মাস পর চিকিৎসাটি পুনরায় মূল্যায়ন করা উচিত।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন প্রাপ্তবয়স্ক: ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট দিনে দুই বার সেব্য। ৬ থেকে ১২ মাস পর চিকিৎসা পুনরায় মূল্যায়ন করতে হবে।
- অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর যত দ্রুত সম্ভব ২০০০ মি.গ্রা. (২টি ১০০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট) দিনে চার বার সেবন শুরু করতে হবে। ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স অনুযায়ী এই মাত্রা কমাতে হতে পারে। চিকিৎসার মেয়াদ সাধারণত ৯০ দিন হয়, তবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে এই সময় বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে।
* রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ সেবন করুন
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
কিডনির জন্য ক্ষতিকর ওষুধের সাথে ভ্যালাসাইক্লোভির সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত, বিশেষ করে যাদের কিডনির কার্যকারিতা দুর্বল। অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড, অর্গানোপ্ল্যাটিনাম যৌগ, আয়োডিনেটেড কনট্রাস্ট মিডিয়া, মেথোট্রেক্সেট, পেন্টামিডিন, ফসক্যারনেট, সাইক্লোস্পোরিন এবং ট্যাক্রোলিমাসের মতো ওষুধ একসাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা জরুরি।
সিমেটিডিন এবং প্রোবেনিসিড একসাথে ভ্যালাসাইক্লোভির সেবনের ফলে কিডনির মাধ্যমে অ্যাসাইক্লোভির নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয়, যা শরীরে অ্যাসাইক্লোভিরের পরিমাণ যথাক্রমে ২৫% এবং ৪৫% বাড়িয়ে দেয়। অন্যান্য ওষুধ (যেমন- টেনোফোভির) যা কিডনির নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়, সেগুলো শরীরে অ্যাসাইক্লোভিরের ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। একইভাবে ভ্যালাসাইক্লোভিরও অন্য ওষুধের ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। মাইকোফেনোলেট মোফেটিল-এর সাথে এটি একসাথে ব্যবহার করলে উভয় ওষুধের রক্তে উপস্থিতির পরিমাণ (AUC) বৃদ্ধি পেতে পারে।
সিমেটিডিন এবং প্রোবেনিসিড একসাথে ভ্যালাসাইক্লোভির সেবনের ফলে কিডনির মাধ্যমে অ্যাসাইক্লোভির নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয়, যা শরীরে অ্যাসাইক্লোভিরের পরিমাণ যথাক্রমে ২৫% এবং ৪৫% বাড়িয়ে দেয়। অন্যান্য ওষুধ (যেমন- টেনোফোভির) যা কিডনির নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়, সেগুলো শরীরে অ্যাসাইক্লোভিরের ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। একইভাবে ভ্যালাসাইক্লোভিরও অন্য ওষুধের ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। মাইকোফেনোলেট মোফেটিল-এর সাথে এটি একসাথে ব্যবহার করলে উভয় ওষুধের রক্তে উপস্থিতির পরিমাণ (AUC) বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
ভ্যালাসাইক্লোভির, অ্যাসাইক্লোভির বা এই ওষুধের অন্য কোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ভ্যালাসাইক্লোভির ব্যবহারে সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা গেছে। অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:
- রক্ত ও লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম: লিউকোপেনিয়া (শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়া), থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (প্লাটিলেট কমে যাওয়া)।
- রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা: অ্যানাফিল্যাক্সিস (তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া)।
- মানসিক ও স্নায়ুতন্ত্র: মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, মনোযোগ কমে যাওয়া, কাঁপুনি, উত্তেজনা, অ্যাটাক্সিয়া (ভারসাম্যহীনতা), খিঁচুনি, এনসেফ্যালোপ্যাথি এবং কোমা।
- শ্বসনতন্ত্র: শ্বাসকষ্ট।
- পরিপাকতন্ত্র: বমি, ডায়রিয়া, পেটে অস্বস্তি।
- লিভার: লিভার ফাংশন টেস্টের সাময়িক পরিবর্তন বা বৃদ্ধি।
- ত্বক: র্যাশ, চুলকানি, আমবাত (Urticaria), আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা।
- কিডনি: কিডনিতে ব্যথা বা কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া (বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে বা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি সেবন করলে)।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ভ্যালাসাইক্লোভির ব্যবহারের সীমিত তথ্য রয়েছে। তবে গর্ভাবস্থার রেজিস্ট্রি ও বাজারজাতকরণের পরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এটি ভ্রূণ বা নবজাতকের কোনো ক্ষতি করে না। গর্ভাবস্থায় কেবল তখনই এটি ব্যবহার করা উচিত যখন সম্ভাব্য সুবিধা সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়।
স্তন্যদানকাল: ভ্যালাসাইক্লোভিরের প্রধান উপাদান অ্যাসাইক্লোভির মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয়। তবে থেরাপিউটিক মাত্রায় সেবনের ফলে শিশুর শরীরে যে পরিমাণ ওষুধ প্রবেশ করে তা নবজাতকের হার্পিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শিরার ওষুধের (অ্যাসাইক্লোভির) মাত্রার ২%-এরও কম। তাই স্তন্যদানকালে এটি সতর্কতার সাথে এবং কেবল চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় ব্যবহার করা উচিত।
স্তন্যদানকাল: ভ্যালাসাইক্লোভিরের প্রধান উপাদান অ্যাসাইক্লোভির মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয়। তবে থেরাপিউটিক মাত্রায় সেবনের ফলে শিশুর শরীরে যে পরিমাণ ওষুধ প্রবেশ করে তা নবজাতকের হার্পিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শিরার ওষুধের (অ্যাসাইক্লোভির) মাত্রার ২%-এরও কম। তাই স্তন্যদানকালে এটি সতর্কতার সাথে এবং কেবল চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় ব্যবহার করা উচিত।
সতর্কতা
পানির পরিমাণ: ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের, বিশেষ করে বয়স্কদের শরীরে পর্যাপ্ত তরল বা পানি নিশ্চিত করতে হবে।
কিডনি সমস্যা এবং বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে: যেহেতু ওষুধটি কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়, তাই কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ কমাতে হবে। বয়স্কদের কিডনির কার্যকারিতা কম থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকায় তাদের ক্ষেত্রেও ডোজ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। উভয় ক্ষেত্রে স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
লিভারের সমস্যা: লিভারের রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে দৈনিক ৪০০০ মি.গ্রা. বা তার বেশি উচ্চ মাত্রার ব্যবহারের কোনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। লিভার প্রতিস্থাপনের রোগীদের ক্ষেত্রেও দৈনিক ৪০০০ মি.গ্রা.-এর বেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
যৌনাঙ্গের হার্পিস সংক্রমণ: লক্ষণ বা উপসর্গ থাকা অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকলেও রোগীদের সহবাস বা যৌন মিলন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিতে হবে।
CMV সংক্রমণ: সিএমভি রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রতিস্থাপিত রোগীদের ক্ষেত্রে ভ্যালাসাইক্লোভির কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন সুরক্ষার কারণে ভ্যালগ্যান্সাইক্লোভির বা গ্যান্সাইক্লোভির ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। উচ্চ মাত্রার কারণে কিডনির কার্যকারিতা পরিবর্তন হতে পারে, তাই নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
কিডনি সমস্যা এবং বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে: যেহেতু ওষুধটি কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়, তাই কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ কমাতে হবে। বয়স্কদের কিডনির কার্যকারিতা কম থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকায় তাদের ক্ষেত্রেও ডোজ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। উভয় ক্ষেত্রে স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
লিভারের সমস্যা: লিভারের রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে দৈনিক ৪০০০ মি.গ্রা. বা তার বেশি উচ্চ মাত্রার ব্যবহারের কোনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। লিভার প্রতিস্থাপনের রোগীদের ক্ষেত্রেও দৈনিক ৪০০০ মি.গ্রা.-এর বেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
যৌনাঙ্গের হার্পিস সংক্রমণ: লক্ষণ বা উপসর্গ থাকা অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকলেও রোগীদের সহবাস বা যৌন মিলন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিতে হবে।
CMV সংক্রমণ: সিএমভি রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রতিস্থাপিত রোগীদের ক্ষেত্রে ভ্যালাসাইক্লোভির কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন সুরক্ষার কারণে ভ্যালগ্যান্সাইক্লোভির বা গ্যান্সাইক্লোভির ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। উচ্চ মাত্রার কারণে কিডনির কার্যকারিতা পরিবর্তন হতে পারে, তাই নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
মাত্রাধিক্যতা
ভ্যালাসাইক্লোভির মাত্রাতিরিক্ত সেবনের ফলে তীব্র কিডনি বিকল এবং স্নায়বিক সমস্যা যেমন- বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, উত্তেজনা, চেতনা হ্রাস পাওয়া এবং কোমা হতে পারে। বমি বমি ভাব এবং বমিও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কিডনি জটিলতা থাকা রোগী বা বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মে ডোজ না কমানোর ফলে অনিচ্ছাকৃত ওভারডোজ হতে দেখা গেছে। বিষাক্ততার লক্ষণগুলোর জন্য রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। হিমোডায়ালাইসিস রক্ত থেকে অ্যাসাইক্লোভির দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে, তাই লক্ষণযুক্ত ওভারডোজের ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকরী ব্যবস্থা হতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Herpes simplex & Varicella-zoster virus infections
সংরক্ষণ
আলো থেকে দূরে, ঠাণ্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
