সিলিমারিন

নির্দেশনা

সিলিমারিন নিম্নলিখিত রোগসমূহের চিকিৎসায় এবং প্রতিরোধে নির্দেশিত:
  • লিভারের রোগ (অ্যালকোহলজনিত এবং অ্যালকোহলমুক্ত উভয় ধরনের)
  • লিভার সিরোসিস (অ্যালকোহলজনিত এবং অ্যালকোহলমুক্ত উভয় ধরনের)
  • সংক্রামক হেপাটাইটিস 
  • ওষুধজনিত হেপাটাইটিস 
  • ডায়াবেটিস মেলাইটাস জনিত সেকেন্ডারি লিভারের রোগ
  • মাদকদ্রব্যের বিষাক্ততা 
  • ফ্যাটি লিভার (যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমা)
  • জন্ডিস
* রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ সেবন করুন

ফার্মাকোলজি

সিলিমারিন একটি সুপরিচিত লিভার সুরক্ষাকারী উপাদান। এটি মিল্ক থিসল ফলের স্ট্যান্ডার্ডাইজড নির্যাস থেকে প্রস্তুত করা হয়। সিলিমারিন আরএনএ পলিমারেজ-এ  উদ্দীপিত করে, প্রোটিন সংশ্লেষণ বৃদ্ধি করে এবং লিভারের কোষ পুনর্গঠন ও মেরামতে সাহায্য করে।

সিলিমারিনের লিভার রক্ষা এবং লিভার মেরামতের কাজটি প্রধানত দুটি প্রধান ক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রোটিন পুনরুদ্ধার ক্ষমতা। সিলিমারিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা ভিটামিন ই এর চেয়ে দশ গুণ বেশি শক্তিশালী। এটি লিভার কোষের বহিরাবরণ বা ঝিল্লিকে স্থিতিশীল করার মাধ্যমে বিষাক্ত এবং ক্ষতিকারক বহিরাগত উপাদানকে কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

এছাড়াও সিলিমারিনের মেমব্রেন বা ঝিল্লি স্থিতিশীল করার ক্ষমতা রয়েছে। এটি লিভারের কোষের গঠনকে এমনভাবে পরিবর্তন করে যার ফলে নির্দিষ্ট কিছু টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান কোষে প্রবেশ করতে পারে না। সিলিমারিন লিভারের কোষগুলোকে অ্যালকোহল, জৈব যৌগ, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, অ্যাসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল), পরিবেশ দূষক এবং খাদ্য, ওষুধ ও কেমোথেরাপিউটিক এজেন্টসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের বিপাকক্রিয়ার ফলে তৈরি ক্ষতিকর উপজাত থেকে রক্ষা করে।

এটি অ্যান্টি-লিপিড পারঅক্সিডেটিভ, অ্যান্টিফিব্রোটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (প্রদাহরোধী), মেমব্রেন স্ট্যাবিলাইজিং, ইমিউনোমডুলেটরি এবং লিভার পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও কাজ করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্ক: ১ থেকে ৩ টি করে ক্যাপসুল দৈনিক ২ থেকে ৩ বার সেবন করতে হবে অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লক্ষণ উপশম না হওয়া পর্যন্ত সেবন চালিয়ে যেতে হবে।

শিশু: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের এই ওষুধ দেওয়া যাবে না।
* রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ সেবন করুন

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

সিলিমারিনের সাথে বিউটাইরোফেননস বা ফেনোথিয়াজিন জাতীয় ওষুধ একসাথে ব্যবহার করলে লিপিড পারঅক্সিডেশন হ্রাস পায়।

প্রতিনির্দেশনা

সিলিমারিন বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি যাদের জানা অতিসংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য এটি ব্যবহার করা নিষেধ।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

নির্দেশিত মাত্রায় এটি শরীরের জন্য বেশ সহনীয়। তবে মাঝেমধ্যে মৃদু জোলাপের মতো প্রভাব (হালকা পাতলা পায়খানা) দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকালে সিলিমারিন ৭০ মি.গ্রা. বা ১৪০ মি.গ্রা. ব্যবহারের কোনো পর্যাপ্ত তথ্য বা অভিজ্ঞতা নেই। তাই প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সতর্কতার সাথে সিলিমারিন গ্রহণ করা উচিত।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Cholagogues, Cholelitholytics & Hepatic Protectors, Herbal and Nutraceuticals

সংরক্ষণ

আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

Available Brand Names